নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০০ ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নেপালে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন্যার পানিতে সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাবে, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি এখনো নিখোঁজ। নেপালি ও বিদেশি নাগরিক মিলিয়ে ৭৫৩ জন পর্যটকেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ৮৮ নাগরিককে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৮৭ জন ভারতীয়। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চার ভারতীয় নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ভারত থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাঠমান্ডুতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার কথা জানিয়েছিল।
অন্যদিকে চীনেও বন্যায় প্রাণহানি বেড়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
চীনে সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপালের রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।