• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

অস্ত্র সংকটের খবর ফাঁসে পেন্টাগনে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক / ৭২ Time View
Update : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন অস্ত্রাগারে টানাটানির গোপন তথ্য কীভাবে সংবাদমাধ্যমে চলে গেল, তা বের করতে তোলপাড় শুরু হয়েছে পেন্টাগনে।পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয়েন্ট স্টাফের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসানো হয়েছে লাই ডিটেক্টর বা পলিগ্রাফ পরীক্ষার মুখোমুখি।

মূলত কার হাত দিয়ে রণকৌশল ও অস্ত্রসংকটের মতো সংবেদনশীল তথ্য বাইরে গেছে—বা এর পেছনে কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কি না—তা খুঁজে পেতেই পেন্টাগনের এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি।

অস্ত্র ঘাটতির তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারি নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা যায়, মার্কিন জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গত আগস্টে লাই ডিটেক্টর টেস্টের মুখোমুখি হতে হয়।

সম্প্রতি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু খবর ফাঁসের পরেই মূলত এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিরক্ষা দপ্তর। কারণ, ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কর্মকর্তার মধ্যে অত্যন্ত সীমিত কয়েকজনই সামরিক বাহিনীর এই মূল সংবেদনশীল তথ্যগুলো জানতেন।

এই পলিগ্রাফ পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ভবিষ্যতে কেউ যেন আর এমন তথ্য ফাঁসের সাহস না পান, সেই সতর্কবার্তা দেওয়া।

সংবাদমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি ও বরখাস্তের ঝড়

তথ্যপ্রবাহ আটকাতে শুধু অভ্যন্তরীণ তদন্তই নয়, সাংবাদিকদের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পেন্টাগন। গত মে মাসের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাসদস্যদের ব্যক্তিগত ডিভাইসের ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর খবর প্রকাশের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী সামরিক পত্রিকা স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিন, প্রকাশক ম্যাক্স লেডেরার ও মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি লারা কোর্তেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও পেন্টাগনের অবস্থান

তদন্তের বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল স্পষ্ট করে কোনো মন্তব্য না করলেও জানান, “জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত যেকোনো গোপনীয় তথ্য ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অস্ত্র সংকটের খবরকে পুরো ‘মিথ্যা ও দেশদ্রোহী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, তারা এসব করছে কারণ তারা আমাকে জিততে দেখার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে হারতে দেখতেই বেশি পছন্দ করে।

ট্রাম্পের দাবি, যেকোনো যুদ্ধের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী গোলাবারুদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে এবং দেশে রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র উৎপাদন চলছে।

গভীর উদ্বেগে পেন্টাগন

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জয়েন্ট স্টাফের মতো অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা এবং প্রেসিডেন্টের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয় যে, ইরান যুদ্ধের স্পর্শকাতর তথ্য সামলাতে গিয়ে পেন্টাগন এখন চরম অবিশ্বাস ও উদ্বেগের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category