ফেইসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রবিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত নাসিরনগরে অন্তত পাঁচটি মন্দির ভাঙা হয়েছে। ভাংচুর-লুটপাট হয়েছে হিন্দুদের শতাধিক ঘর। রোববার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এ হামলা চলে।
একটি ছবিকে কেন্দ্র করে যদি ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয় তবে তা যে কোন শক্তির বিনিময়ে প্রতিহত করতে হবে | দেশের জনগণ সরকারকে এই মুহূর্তে সহযোগিতা না করলে দেশ অচিরেই রসাতলে তলিয়ে যাবে | ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে অকার্যকর করার অভিপ্রায় নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিদের কর্মকাণ্ডকে দেখতে চেষ্টা করি | রাষ্ট্র ধর্মকে রক্ষা করার অজুহাতে আজ একটি অপশক্তি মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে যে অরাজকতার সৃষ্টি করছে তা এই সমাজে কখনোই প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না | প্রতিটি মানুষকে তার ধর্ম, বর্ণ, আস্তিক কি নাস্তিক ও জাতিগত পরিচয়ে এ দেশে বসবাসের পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদানে সকলকে এক সাথে কাজ করে যেতে হবে |
এই দৃশ্য কিন্তু এই মাটির কখনোই ছিল না এর রুপকার হল স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকা সেই জামায়াত ই ইসলাম। এদের কিছু বহিরপ্রকাশ আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন সময় যেমন ২০০৪ সালে ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলায়, ২০০৫ সালে ১৭ আগষ্ট ৬৪ টি গেলায় সিরিজ বোমা হামলা ,রামুর স্রহিংসতা, কিংবা হুমায়ন আযাদের উপর হামলা। এইগুলি এদের সামাজিক দৃঢ় অবস্থানের কারনেই নিস্তার পেয়ে গেছে। মসজিদ শুধুমাত্র আমাদের ইবাদতের স্থানই নয় বরং আমাদের ঐতিহ্য যা সাক্ষী দেয় অন্তত সৌদি আরবের চেয়ে এই দেশে ধর্ম প্রান মুসল্লি বেশী । বায়তুল মাল,জানে সদ্গা এবং আরও বহু নামে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে শিবির এবং কিছু জামাতি নিন্মবরগের সঙ্ঘথনগুলি। এতে যদিয়ও কিছু পরিমানে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন তবে তার চেয়ে বহু গুনে সামাজিক মমত্ব, ভ্রাত্তিত্ব,সম্পর্ক এবং গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তোলে সাধারন মানুষদের সাথে। যা মুলত এক প্রকার ভদ্র চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে এদের লক্ষ্য হল মানুষের দোর গোরায় পৌঁছান নিজেদেরকে এবং তাদের একটি সাদা ও পরিস্কার রুপ প্রকাশ করা এলাকার মানুষদের কাছে। উপরে উল্লেখিত নানা কাজ ছাড়াও আরও অনেক কাজ এরা করে শুধুমাত্র সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য। আর আমরা সেটা হতে দিচ্ছি আবাল নাগরিকের মতন। যাই হোক রুখে দাড়াতে পরিবারগুলিকে কেননা এদের টার্গেট হল ছোট থেকে শুরু করে বড়। পিতামাতা কে খেয়াল রাখতে হবে যে কাদের সাথে তার ছেলে বা মেয়ে চলাফেরা করে তা নাহলে হয়ত কোন একদিন তারা নিজেরাই তাদের ছেলে মেয়েদের ব্যাগে বই খাতার বদলে বোমা বা চাপাতি দেখতে পাবেন।
টেলিভিশন খুলেই দেখবেন প্রচন্দ্র আলোচনা চলছে জামাত নিষিদ্ধ করার জন্য কিংবা দেখবেন খবরে বলছে জামাতের তাণ্ডব লীলার কথা আর এরই পর মুহূর্তে সেই চ্যানেলেই দেখবেন জামাতি কোন প্রতিষ্ঠানের নামে উপস্থাপক ঘোষণা করছে ব্রেক মানে সেই কোম্পানি হলেন গিয়ে স্পন্সর ওই অনুষ্ঠানের কিংবা খবরের। তাহলে এই যখন অবস্থা তাদের তখন আদৌ কি সম্ভব শত্রু নিধনের ? আমাদের দেশের সর্ব পেশার জনগণ ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষক,আইনজীবী এবং সাংবাদিকবৃন্দ বেশ সরব যুদ্ধ অপরাধির বিষয়ে যা কিনা বেশ আশাব্যাঞ্জক। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে অর্থনৈতিক ভাবে গত দুই যুগে নিজেদের অবস্থান পাহাড়সম শক্ত করে গড়ে তোলা এই জামাতকে কি আদৌ এই দেশ থেকে বিতারিত করা সম্ভব যদিও দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছিল তারা? তবে আলোচনা সেখানে নয় আলোচনা হল এই সব প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করতে হবে তাহলেই জামাত নিধন করা যাবে আর সেটা সরকারিভাবে সম্ভব নয় সেটা করতে হবে আমাদেরকেই । আমাদের উচিৎ এদের এইসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং সাথে সাথে অন্যদের কেও উদ্ভুদ্দ করতে হবে … ইসলামি ব্যাংক, ইসলামি ইন্সুরেন্স, ইসলামি ব্যাংক হসপিটাল, আল আরাফা , শাহজালাল ব্যাংক ,ইবনে সিনা হসপিটাল এবং মেডিকেল কলেজ ,ইবনে সিনা ফার্মা, ইন্টারন্যশনাল ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়,ইসলামিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, দৈনিক নয়াদিগন্ত, দিগন্ত টিভি, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক ইনকিলাব, ইসলামিক টিভি সহ আরও সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং এদের পণ্য এবং সেবা বর্জন করা একজন বাংলাদেশী হিসেবে আপনার আমার সকলের দায়িত্ব। আমাদের রাজনৈতিক দুটি দলের প্রতিনিয়তই জামাতের লেজুড়বৃত্তি করার একটি প্রবনতা আছে যা আমাদেরকে বারবার সাক্ষী হতে হয়েছে। এবং এই যে বিচার হচ্ছে তাতে যদিও আমি আনন্দিত কিন্তু এইখানে আমার অনেক ত্রুটি আছে এবং এইসব চিহ্নিত খুনিদেরকে স্পেস দেয়া হচ্ছে বারবার। এই জায়গাটিতে দুই দলেরই একটি সমঝোতায় আশা উচিৎ কেননা তত্ত্বাবধায়কের আন্দোলনের সাথে সাথে এটিও একটি স্থান যেখানে জাতি চায় দুইটি দলই এক যায়গায় আসুক।
মসজিদ ভাঙ্গা যেমন গুরুতর অপরাধ ঠিক মন্দির ও প্রতিমা ভাঙ্গাও একি রকম গুরুতর অপরাধ হিসেবেই বিবেচনায় আনতে হবে | ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রামু, কক্সবাজার, হাটাহাজারী, ফরিদপুর, বরিশাল, নোয়াখালী ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছুদিন যাবত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর ধর্মের নামে ধর্মান্ধতার উপর আশ্রয় করে যে অত্যাচার নিপীড়ন চালানো হচ্ছে তা অতিসত্বর বন্ধ করার জন্যে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা হোক |
সমাপ্ত।