মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের নিরাপত্তা রক্ষায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ‘জলদস্যুতা’ ও ‘ভণ্ডামির’ অভিযোগ এনেছেন। খবর আলজাজিরার।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে নেবেনজিয়া বলেন, পুরো পরিস্থিতির দায়ভার ইরানের ওপর চাপানোর একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। যেন মনে হয় ইরানই তার প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
নেবেনজিয়া আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র যদি আক্রান্ত হয়, তবে নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে তারা আঞ্চলিক জলসীমায় নৌ-চলাচল সীমিত করার অধিকার রাখে।
পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে রুশ রাষ্ট্রদূত তাদের ‘জলদস্যুদের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, জলদস্যুরা অন্তত তাদের জাহাজে খুলি ও হাড় অঙ্কিত কালো পতাকা উড়িয়ে আক্রমণ করে, যা স্পষ্ট। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের বেআইনি কর্মকাণ্ড আড়াল করতে একতরফা নিষেধাজ্ঞার দোহাই দেয়। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, যারা কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলাকে সমর্থন দিচ্ছে, তারা এখন হরমুজ প্রণালিতে ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ নিয়ে কথা বলছে—যা চরম ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি আংশিক বন্ধ করে দিয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি মার্কিন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
Leave a Reply