মোঃ আজাহারুল ইসলাম লিটন: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চন্দপলাশিয়া মৌজায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৃথক তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মারধর, শ্লীলতাহানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে মাছ নিধনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
জমি দখলে বাধা দেওয়ায় হামলা ও শ্লীলতাহানি: অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ বিকেলে চন্দপলাশিয়া গ্রামের মো. রাসেল সরকারের পৈতৃক জমিতে বোরো ধানে পানি দিতে যান তাঁর বোন নার্গিস বেগম। এ সময় প্রতিপক্ষ আজিজুল হক ও মিস্টার মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নার্গিস বেগম গুরুতর আহত হন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা তাঁকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধন:
অন্য একটি অভিযোগে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ১১ ডিসেম্বর রাতে প্রতিপক্ষরা তাঁর পৈতৃক পুকুরে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে তিনি পুকুরে দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় সব মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন। এতে তাঁর প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ: একই এলাকার মাহমুদুল্লাহ (৩৩) অভিযোগ করেন, তাঁর পৈতৃক ৭৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে চাষাবাদ শুরু করেছে প্রতিপক্ষ। তিনি বাধা দিলে তাঁকে গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সেচে বাধা, নষ্ট হচ্ছে বোরো আবাদ: এদিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৪ একর বোরো ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিপক্ষের বাধার কারণে সময়মতো সেচ ও সার দিতে না পারায় জমিতে আগাছা জন্মেছে এবং পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানক্ষেত হলুদ হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেচের অভাবে ধানক্ষেতের অবস্থা শোচনীয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কালভার্ট দিয়ে পানি সরবরাহের পথ বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৮ ফুট বৈদ্যুতিক তারসহ দুটি সেচযন্ত্র লুটপাটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি: ভুক্তভোগী রাসেল সরকার ও তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন। ফুলপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply