বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়ল ভারি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেবে সরকার :প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর এমপিওভুক্ত কলেজে চরম অনিয়ম: ৪০ শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত মাত্র ২, নেই শিক্ষার্থী বন্যার পূর্বাভাস, নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু পুলিশে নতুন করে ১৪ হাজার ৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়ালন্দে ‘পার্টনার’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: স্বজনপ্রীতিতে বঞ্চিত কৃষক, তদন্তের দাবি ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগে মধুপুর ছকিরননেছা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে তদন্ত, ভিডিও ভাইরাল, সত্যতা মিলেছে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার ইরানের : রাশিয়া মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে সবাই ন্যায়বিচার পাবেন: প্রধানমন্ত্রী
ধর্ম, রাজনীতি ও আমাদের মূল্যবোধ, পর্ব-২

ধর্ম, রাজনীতি ও আমাদের মূল্যবোধ, পর্ব-২

ইশতিয়াক আহমেদ :

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। ৮৩% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে, মুসলমানদের ধর্মানুভুতিকে পুজি করে, ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে জামায়াত শিবির দেশটাকে এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে সকল ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ , ধংসাত্বক কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তথাকথিত ধর্ম রক্ষার নামে দেশে বিশৃংখলা, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপপ্রয়াস কখনো কোন সুশীল সমাজ মেনে নিতে পারবে না। ইসলামের নামে তারা, পবিত্র মসজিদে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করছে, মসজিদের টাইলস ভাংছে, বোমাবাজি করছে, প্রানের শহীদ মিনারে হামলা চালাচ্ছে, জাতীয় পতাকা পোড়াচ্ছে, ছিড়ছে, স্বাধীন বাংলাদেশে তারা পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিচ্ছে, পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে মিছিল দিচ্ছে, । তথাকথিত ইসলাম রক্ষার নামে তারা যে দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তা দেখে সাধারন মানুষের বিবেক আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এদের উদ্দেশ্য কি তাহলে ইসলাম রক্ষা নাকি ইসলামকে পুজি করে যুদ্ধ অপরাধী রাজাকারদের রক্ষা করা? জামায়েতে ইসলামি বাংলাদেশের জিহাদ ভণ্ডামির শেষ আশ্রয়স্থল । জিহাদ এর যেই যুদ্ধের রুপ এটি হবে হবে সেখানেই যেখানে আত্মরক্ষার প্রশ্ন জরিত , এটি হবে সেখানেই যেখানে সমাজ ব্যাবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন এর আগে নয় । মনে রাখবেন জিহাদ মানে সংগ্রাম যা সবসময় আন্দলনের মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে তা না ,ব্যাক্তি জিবনেও হতে পারে এর প্রকাশ এবং সেটা হতে পারে কঠোর পরিশ্রম যেমন মাটি কাটা , অর্থ উপার্জন করা , শিক্ষার্জন করা থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজ আমাদের মানব জীবনে । আমাদের জনসাধারনের মধ্যে এখন একটি জামাত বিরোধী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সেটার প্রধান কারন হল আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এদের অবস্থান এবং জঙ্গিবাদের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদ এবং সাথে সাথে তাদের কিছু ভণ্ডামিমুলক চরিত্র যা তাদের মাঝে প্রায়সই দেখা যায়। জামাত-শিবির এর অবস্থান আমাদের দেশের প্রতি আসলে কিরুপ সেটা তারা সুজুগ পেয়েছিল শুধুমাত্র একবারই দেখাতে আর সেবার তারা বেইমানি করেছে । আর তারা যদি আওয়ামিলিগ ,বিএনপির জায়গায় থাকতো তাহলে হয়ত দেশ আবার পশ্চিম পাকিস্তান বা পশ্চিম সৌদি আরব হয়ে যেত এতদিনে ।কিন্তু এত কিছুর মাঝে কি এদের শোধন হয়েছে কিছুটা ? না হয়নি

কয়েকবছর  আগে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে জামায়াতের উসকানীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আর গত কয়েক মাসে তাদের অবস্থান তো সকলেরই জানা। পুলিশের বিরুদ্ধে তাদের যেই দাপত তাতে আমি মনে করছি সেনাবাহিনী দ্বারা চিরুনি অভিযান চালনা করা প্রয়োজন । সাথে সাথে তাদের এই সরকারের আমলেও বিশ্ববিদ্দ্যালয়ের দাপট বন্ধ হয়নি । এখন প্রশ্ন হল কেন এই নরপিচাশদের মানব রক্তের সাথে হলি খেলার এত ইচ্ছে । জামাতের মৌলবাদী কার্যক্রমের যেই দউরত্ত্য তা দিন কে দিন কেবলি বেড়ে যাচ্ছে ? উত্তর একেবারেই সোজা জামাত নিধন এই বাংলায় একেবারেই অসম্ভব কেননা আমাদের সরিষার ভিতরেই যে ভুত !!!! জামাত আজকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক শক্তিশালী এবং এদের ভিতরকার যেই ঐক্য দল হিসেবে এবং এদের অন্যান্য জঙ্গিবাহিনীর সাথে যেই গোপন আতাত সেটি আসলে অসাধারন এবং এরকম ঐক্য আমাদের অন্য বড় দুই দলের মধ্যে আসলেই নেই ।তাহলে এদেরকে ষড়যন্ত্র বৃথা করার উপায় কি ? উপায় কঠিন হলেও আছে । শুধু মাত্র দমন নিপীড়নে এদেরকে দমন করা সম্ভব নয় । এদেরকে এই মুহূর্তে আটকাতে হলে প্রয়োজন অর্থনৈতিক,সামাজিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলন আর পাসাপাসি প্রয়োজন আইনি লড়াই । অসাম্প্রদায়িক বাঙ্গালী জাতিয়তাবোধের চেতনা থেকে যে জাতির উদ্ভব সেই জাতির ভিতরে এখন আর সেই চেতনা নেই আছে শুধু বিভক্তিতে ভরা সাম্প্রদায়িক চেতনা।

দেশের ৮৪ জন মুক্তমনা লেখক ও ব্লগারের নামের তালিকা রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

ইসলাম ও মুহাম্মদকে (স.) কটূক্তিকারী হিসাবে আখ্যায়িত করে নাস্তিক ও কাফির অভিহিত করে শাস্তি দাবি করে হেফাজতে ইসলাম। তারা মুক্তমনা লেখক ও ব্লগারদের শাস্তির দাবি করে তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৮৪ জন লেখক ও ব্লগারের তালিকা দেয় হেফাজতে ইসলাম। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তালিকাভুক্ত লেখক ও ব্লগারদের শাস্তির দাবি করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তখন উত্তরা থেকে আরিফ মহিউদ্দিন নামে একজন লেখক ও ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়ে প্রাণে বাঁচার জন্য দেশত্যাগ করেন আরিফ মহিউদ্দিন। এখান থেকেই মুক্তমনা লেখক ও ব্লগাররা টার্গেটে পরিণত হন প্রথম। তারপর থেকেই গত ২ বছরে অন্তত ৭ জন মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার খুন হন। এ পর্যন্ত যেই ৭ জন মুক্তমনা ব্লগার ও লেখক খুন হয়েছেন তারা হচ্ছেন, মিরপুরে আহাম্মেদ রাজীব হায়দার শোভন, আশুলিয়ায় সান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ছাত্র নিয়াজ মোর্শেদ বাবু, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র এসএম আশরাফুল ইসলাম, বুয়েটের ছাত্র দ্বীপ রায়হান, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সিলেটের অনন্ত বিজয় দাশ।

চলবে…….

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Comments are closed.

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com