• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

শিবিরে শৈশব নয়, রোহিঙ্গাদের দরকার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ: জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক / ২৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রায় এক দশক ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য একটি টেকসই সমাধানের পথ তৈরির তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো মিয়ানমারে তৈরি হয়নি। তবে রোহিঙ্গাদের কেবল জীবনধারণ নয়, অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের সুযোগ প্রাপ্য।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ বলেন, “বাংলাদেশে এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। নির্বাসনে একটি নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। কিন্তু মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো অনুপস্থিত।”

সম্মেলনে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ জানান, ২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া শিশুরা বাস্তুচ্যুত অবস্থাতেই শৈশব পার করছে। বর্তমানে প্রতিবছর শিবিরে ৩০ হাজারের বেশি শিশু জন্মগ্রহণ করছে। সুরক্ষা ও সহায়তামূলক সেবা কমে যাওয়ায় নারী ও তরুণরা নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করলেও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দায় এককভাবে বাংলাদেশের ওপর ছেড়ে দেওয়া অনুচিত। মানবিক সহায়তা কমে গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘস্থায়ী এই বাস্তুচ্যুতির কারণে সৃষ্ট মানবিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অনির্দিষ্টকাল এই সংকট ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। মানবিক সহায়তা জরুরি হলেও তা রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানে হতে হবে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালেহ পুনর্ব্যক্ত করেন, প্রত্যাবাসন কেবল সীমান্ত অতিক্রম নয়; বরং নাগরিকত্ব, স্বাধীন চলাচল, শিক্ষা ও কাজের অধিকার নিয়ে ভয়হীন জীবনের নাম। সেই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সমন্বিত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category