বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়ল ভারি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেবে সরকার :প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর এমপিওভুক্ত কলেজে চরম অনিয়ম: ৪০ শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত মাত্র ২, নেই শিক্ষার্থী বন্যার পূর্বাভাস, নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু পুলিশে নতুন করে ১৪ হাজার ৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়ালন্দে ‘পার্টনার’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: স্বজনপ্রীতিতে বঞ্চিত কৃষক, তদন্তের দাবি ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগে মধুপুর ছকিরননেছা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে তদন্ত, ভিডিও ভাইরাল, সত্যতা মিলেছে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার ইরানের : রাশিয়া মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে সবাই ন্যায়বিচার পাবেন: প্রধানমন্ত্রী
বসন্তকালে চোখ ওঠার যত কারণ

বসন্তকালে চোখ ওঠার যত কারণ

শীত শেষ হতে চলেছে। বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি পরিবর্তন হচ্ছে। এ সময় ফুলের রেণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। তাতে চোখের অ্যালার্জিসহ চোখ ওঠা রোগের উপসর্গ দেয়। ভোগায় অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিসে।

কনজাংটিভিটিস কী : চোখের ভাইরাসজনিত ইনফেকশন এটি এবং অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে। কনজাংটিভা নামে চোখের পর্দায় প্রদাহ হলে তাকে বলে চোখ ওঠা রোগ। এ রোগ বসন্তকালে হয়। ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জির কারণেও চোখ ওঠে। সাধারণভাবে চোখ ওঠা বলতে চোখ লাল হওয়া বোঝানো হলেও চোখ লাল হওয়া উপসর্গমাত্র।

কুসংস্কার : চোখ ওঠা রোগীর চোখের দিকে তাকালে চোখ ওঠে- এটি সম্পূর্ণ কুসংস্কার। ভাইরাসে আক্রান্ত চোখ কিছুদিনের মধ্যে ভালো হয়। কিন্তু এটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে। এ কারণে আশপাশের অনেককেই আক্রান্ত করতে পারে। এ ধরনের রোগী কতদিনে সুস্থ হবে, তা নির্ভর করে তিনি কোন ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার প্রতিরোধক্ষমতা কেমন- তার ওপর।

চোখ ওঠার কারণ : জীবাণুর মাধ্যমে আক্রান্ত হলে, এডিনো ভাইরাস, স্কেলেরার ইনফেকশন, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, ইউভিয়াল টিস্যু ইনফেকশন ইত্যাদি কারণে চোখ লাল হতে পারে। ভাইরাস কেরাটাইটিস বা হারপেম সিমপেক্স ভাইরাসজনিত ইনফেকশনই মূলত ভাইরাসজনিত ইনফেকশন। সাধারণত এ ধরনের ইনফেকশনে এক চোখ আক্রান্ত হয়। এছাড়া ময়লা, ধুলোবালি, ওষুধ, কেমিক্যাল বা প্রসাধনী ব্যবহারেও প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

চোখ ওঠার উপসর্গ : সবগুলো উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে, নাও দিতে পারে। যেমন- চোখের চারপাশে হালকা লাল রঙ হতে পারে। চোখের পাতা ফুলে যায়। জ্বালাপোড়া করে। চোখের ভেতর অস্বস্তি ও ব্যথা শুরু হয়। রোদে বা আলোয় তাকানো যায় না। চোখ থেকে অতিমাত্রায় পানি পড়ে। চোখ থেকে শ্লেষ্মাজাতীয় পদার্থ বের হতে থাকে। হলুদ রঙের পুঁজ সৃষ্টি হয়। ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা দুটি একত্রে লেগে থাকে।

চোখ উঠলে করণীয় : বেশি ছোঁয়াচে হওয়ায় রোগীকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। একান্ত প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বাইরে যাওয়া উচিত নয়। পরিষ্কার কাপড় অথবা টিস্যু দিয়ে চোখের কোণে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে এবং যতটা সম্ভব ওই কাপড় গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে। অন্য চোখেও যাতে এ রোগ না হয়, সেজন্য যতটা সম্ভব ভালো চোখে হাত না দেওয়াটা মঙ্গলজনক। তবে সাধারণত এ রোগে একইসঙ্গে অথবা পর্যায়ক্রমে দুচোখই আক্রান্ত হয়। রাতে ঘুম থেকে ওঠার পর বালিশের কভার, তোয়ালে ইত্যাদি গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। এ ধরনের চোখ ওঠায় অ্যান্টিভাইরাল সাধারণত কাজ করে না।

ভাইরাস আক্রমণের ৭-৮ দিনের মধ্যে রোগ সেরে যায়। আক্রান্ত চোখ নোংরা পানি, ধুলাবালি, দূষিত বাতাস থেকে নিরাপদে রাখতে হবে। বাইরে বের হলে সানগ্লাস পরতে হবে। যে পাশের চোখ উঠবে, সে পাশেই কাত হয়ে শুয়ে থাকতে হবে। নইলে আক্রান্ত চোখ থেকে অন্য চোখেও সংক্রমণ হতে পারে। চোখে বারবার পরিষ্কার পানি দিয়ে পরিষ্কার করা বা চোখে পানির ঝাপটা দেওয়া যাবে না। এতে যদি ভালো না হয় বা যদি চোখে কোন জটিলতা, যেমন- চোখ খুব বেশি লাল হলে বা চুলকালে, অতিরিক্ত ফুলে অথবা দৃষ্টি ঝাপসা হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন বিভাগীয় প্রধান, চক্ষুরোগ বিভাগ, আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Comments are closed.

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com