• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

আশুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস

জাহাঙ্গীর আলম রাজু ,নিজস্ব প্রতিবেদক: / ২৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাহাঙ্গীর আলম রাজু ,নিজস্ব প্রতিবেদক:  দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা কাটিয়ে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সেবা কার্যক্রমে গতি ও শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়া নায়েব আবুল কালাম আজাদ দাপ্তরিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা,সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়ায় অফিসের সেবাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আশুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভূমি সেবা নিতে আসেন। নামজারি, খতিয়ান, রেকর্ড সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন করসহ জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নির্দিষ্ট কাগজপত্র ও সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। তবে এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় অনেক সেবাপ্রার্থীকে বিভিন্ন সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নায়েব আবুল কালাম আজাদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে ভূমি সেবা কার্যক্রমে আগের তুলনায় শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা বাড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত কাজের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকেই দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। আর এই সুযোগে কেউ কেউ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। সেবাপ্রার্থীদের মতে, ভূমি অফিস থেকেই প্রতিটি সেবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন পদ্ধতি ও নির্ধারিত নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হলে দালালনির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।

চলতি বছরের জুন মাসে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর সাভার রাজস্ব সার্কেলের বিভিন্ন ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম ও দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরপর অফিসের পরিবেশ, সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আশুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসেন। তাদের যেন অযথা সময় নষ্ট না হয় এবং প্রয়োজনীয় সেবা নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত পাওয়া যায়, সে বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং দাপ্তরিক কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “ভূমি সংক্রান্ত প্রতিটি কাজ সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। সেবাপ্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে-এটাই আমাদের লক্ষ্য।”ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মোমিন নামে এক সেবাপ্রার্থী বলেন, “সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভূমি সেবার মান উন্নত করতে হলে পুরো দাপ্তরিক ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দ্রুত তথ্য দেওয়া, আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তিতে গতি আনা এবং সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ভূমি অফিস গড়ে তোলা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন,“আশুলিয়া ভূমি অফিসে সেবার ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা যেন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকে। এতে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সরকারি ভূমি সেবার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।”সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজলভ্য করা, দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত সেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আশুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সেবায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরাসরি সরকারি সেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category