বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি ​চট্টগ্রাম মঞ্চ সংগীত শিল্পী সংস্থার ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু–চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সংসদ ভবনে সরকার দলীয় এমপিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি ঢাকা থেকে আরো ২৮ ফ্লাইট বাতিল, ১২ দিনে ৩৯১ ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অভিযান শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম : ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম : ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

পলিসিস্টিক ওভারি থেকেও হতে পারে ক্যানসার। অনিয়মিত মাসিক ও বন্ধ্যত্বের অন্যতম প্রধান কারণ এই পলিসিস্টিক ওভারি। এ রোগের উপসর্গগুলো শরীর অসম্ভব দুর্বল করে দেয়। ইনসুলিন রেজিসটেন্সের জন্য ডায়াবেটিস চেপে বসে শরীরে। বাড়তি ওজন বা ওবেসিটি ডেকে আনে উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর সমস্যা। একই সঙ্গে আরও যুক্ত হতে পারে হার্টের অসুখও। শুধু তা-ই নয়, ঝুঁকি আছে আরও অনেক। যেমন বছরে তিনবারের কম মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল হলে অ্যান্ডোমেট্রিয়াম পুরু হয়ে যেতে পারে, যা অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্লিডিং করা এবং অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। কাজেই সাবধান হোন।

লক্ষণ : পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের বেশ কিছু চেনা লক্ষণ আছে। মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল অনিয়মিত বা একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনেক চেষ্টার পরও প্রেগনেন্সিতে সফলতা নাও আসতে পারে। শরীরজুড়ে ও মুখে অস্বাভাবিক চুল বা লোম বৃদ্ধি পায়। মাথার চুল পাতলা হতে থাকে। বহু চেষ্টা করেও দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া আটকানো যায় না। হঠাৎ মুড স্যুইং। মানসিক অবসাদ যেন মনকে গ্রাস করে থাকে। ঝিমুনি লাগা, এমনকি দিনের বেলা নাক ডাকতে পারে। অনেকের হয়তো এসব লক্ষণ একসঙ্গে ধরা পড়ে না। কিন্তু এর মধ্য থেকে কিছু লক্ষণ যদি মিলে যায় বা কিছু শারীরিক উপসর্গ যদি কমন হয়, তাহলে সাবধান। হতে পারে আপনিও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের পথে এগোচ্ছেন।

কারণ : অস্বাভাবিক হরমোন লেভেলের জন্যই মূলত পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম দেখা দেয়। এমনিতে এ সমস্যার কোনো সঠিক কারণ বের করা যায় না। তবে দেখা গেছে, পরিবারের কেউ যদি আগে এ সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই পরিবার বা কোনো নিকটাত্মীয়ের যদি এ সমস্যা হয়ে থাকে, তা হলে সাবধান হোন। দেখা গেছে, যারা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে ভোগেন, তাদের ওভারি থেকে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ হয়। তাই মনে করা হয়, যাদের শরীরে বাড়তি টেস্টোস্টেরন থাকে, তাদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের উপসর্গ প্রকটভাবে দেখা দেয়।

ডায়াগনসিস : পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হয়েছে কিনা, বোঝার জন্য রক্ত পরীক্ষাই যথেষ্ট। এ পরীক্ষায় দেহে বাড়তি মাত্রায় টেস্টোস্টেরনের প্রভাব পরিলতি হয়। তা ছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করলে পলিসিস্টিক ওভারি ধরা পড়ে।

বাঁচার উপায় : সমস্যা জটিল হওয়ার আগে চিকিৎসার দরকার। এখন জরায়ুর ভেতরের দেয়াল রক্ষার জন্য অনেক উপায় বের হয়েছে। প্রজেস্টোজেন হরমোন ১০ দিনের কোর্স গ্রহণ করলে অথবা একটানা কন্ট্রাসেপটিভ পিল বা ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইজ মিরেনা প্রয়োগ করেও এ সমস্যা মোকাবিলা করা হচ্ছে। হতাশ হবেন না। চেষ্টা করলে এ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। চেষ্টা করুন সুষম আহার খেতে। চিনি, লবণ, কফি এবং অ্যালকোহল বন্ধ করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন নিয়ম করে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। মনে রাখবেন, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রণে থাকলে উপসর্গও বশে থাকে।

লেখক : অনকোলজিস্ট ও ক্যানসার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ; সিএমও, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউিট ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বালুর মাঠ, চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ শাখা

০১৭১২২৪৫৯৪৪; ০৯৬১৩৭৮৭৮০৪

 

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Comments are closed.

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com