আজাহারুল ইসলাম লিটন : ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ ইউ.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের (ভারপ্রাপ্ত) কোনো প্রকার সুপারিশ বা ফরওয়ার্ডিং ছাড়াই একজন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: আবুল হোসেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শম্ভুগঞ্জ ইউ.সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা-২০২৬ এ মোট ১৭১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১৩৭ জন কৃতকার্য হয়। বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তথা জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরই ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু গত ২০/০৪/২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী অহনা পাল, যে ইংরেজি সহ মোট ৫টি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছিল, তার ফরম পূরণ করা হয়েছে বলে ধরা পড়ে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: আবুল হোসেন জানান, চূড়ান্ত তালিকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১৫ জন হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে ২১৬ জনের ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে। এই অতিরিক্ত ফরমটিই অকৃতকার্য শিক্ষার্থী অহনা পালের। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০ এপ্রিল তারিখের একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে এই ফরম পূরণ করা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক সেই আবেদনটি দেখতে চাইলে তাকে তা দেখানো হয়নি।
অনিয়মের অভিযোগ: লিখিত অভিযোগে আরও জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানা গেছে যে, বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষক এই অনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। তবে ওই শিক্ষকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমান অবস্থা: প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর বা ফরওয়ার্ডিং ছাড়া কীভাবে একজন ৫ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফরম পূরণের সুযোগ পেল, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। খ্যাত,ময়মনসিংহ শহরের ৩৩ নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী শম্ভুগঞ্জ ইউসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর ২১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও ২১৬ নাম্বার পরীক্ষার্থী অহনা পালের ফরম পুরনের বিষয়টি অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন অবগত না বলে জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের লিখিত সুপারিশের প্রেক্ষিতে অত্র বিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমেই ফরম পুরনের নীতিমালা প্রতিপালন করে তা করা হয়েছে। এ বিষয়ে শম্ভুগঞ্জ ইউ সি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেছেন মানবিক কারনে বোর্ড কতৃক পক্ষকে অহনা পালের ফরম পুরনের জন্য তিনি লিখিত সুপারিশ করেছেন। ফরম পুরন করবে,নাকি করবে না তার এখতিয়ার বোর্ড কতৃপক্ষের।
অহনা পালের ফরম পুরনে লিখিত সুপারিশ কারী শম্ভুগঞ্জ ইউসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোখলেছুর রহমান এর আগে আড়াই বছর বিভিন্ন কারনে বরখাস্ত ছিলেন। মোখলেছুর রহমান বোর্ড চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে প্রধান শিক্ষক মানসিকভাবে অসুস্থের কথা বলে মিথ্যাচার করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। পরবর্তী সময়ে এডহক কমিটির কাছে মুচলেকা দিয়ে পুনরায় কাজে যোগদান করেছেন বলে বর্তমান স্কুল প্রশাসন নিশ্চিত করেছেন।
Leave a Reply