থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে এক কিশোর প্রথমে নিজের দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর একই অস্ত্র নিয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে আরও ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। শুক্রবারের (৭ আগস্ট) এই ঘটনায় দেশ জুড়ে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
থাই জাতীয় পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারী তার দাদার লাইসেন্স করা পিস্তল ব্যবহার করে প্রথমে দাদা-দাদিকে হত্যা করে। পরে ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে গিয়ে তিন শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে।ঘটনার পর স্কুলের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়। সন্তানদের নিতে ছুটে আসেন অভিভাবকরা। স্কুলের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একে অপরকে সান্ত্বনা দেন।দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পাওয়ারিসা মাইলিসা বলেছেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি হয়তো মারা যাব। আমার স্বপ্নগুলো আর পূরণ হবে না— এই ভয়ই কাজ করছিল।
তিনি বলেছেন, ‘খুব জোরে একের পর এক গুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। হামলাকারী সম্ভবত আমাদের ঠিক ওপরের তলায় ছিল। এমনকি গুলি মেঝেতে আঘাত করার শব্দও শুনেছি।’থাইল্যান্ডের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোলাপি সুয়ুনচুই জানিয়েছেন, আহত ১৫ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়নি। আতঙ্কে পালানোর সময় ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়িতে তারা আহত হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই এক কিশোর শিক্ষার্থী। হামলার পর তারও মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে, সে আত্মহত্যা করেছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল বলেছেন, ‘এটি ভয়াবহ একটি ঘটনা। এমন কিছু কখনোই ঘটা উচিত ছিল না। আমাদের দেশে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে?
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হামলাকারীর পরনে ছিল বেগুনি রঙের স্কুল ইউনিফর্ম। তার কাঁধে একটি কালো ব্যাগ ছিল। ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল গুলির খোসা। এএফপির এক প্রতিবেদক জানান, স্কুলে অন্তত এক ডজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী পৌঁছেছেন। ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার দিক থেকে থাইল্যান্ড শীর্ষ দেশগুলোর একটি। দেশটিতে প্রায় এক কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, অর্থাৎ প্রতি সাতজন মানুষের বিপরীতে একটি অস্ত্র। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে এক কিশোর গুলি চালিয়ে প্রধান শিক্ষককে হত্যা এবং দুই শিক্ষার্থীকে আহত করে। ওই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।পুলিশ জানিয়েছিল, ওই কিশোর হামলার আগে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কিছুদিন পরই সে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করে তার ৯ মিলিমিটার পিস্তল ছিনিয়ে নেয় এবং পরে হামলা চালায়।
এর আগে ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের একটি শিশুসেবাকেন্দ্রে বন্দুক ও ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়ে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ২৪ শিশু ও ১২ প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করেন। এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা।