ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের নজরান প্রদেশে শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, হুথি ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা সমন্বিতভাবে আরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, বৃহস্পতিবার নজরানে চালানো হামলায় সাতজন সৌদি, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা নির্বিচারে বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হুথি বা ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে রিয়াদের দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অংশে পরিণত হয়েছে। লোহিত সাগরে হুথিদের অবরোধের কারণে সৌদি তেল রপ্তানিতেও প্রভাব পড়েছে।
সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের তত্ত্বাবধানে হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানেরও শুক্রবার দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে হুথিরা। এছাড়া বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে সংগঠনটি।