দেশের দুই জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সাতজন এবং সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি সেখানে কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন বগুড়ার বেলাল হোসেন (৩৭), গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৪৫), নূর আলম (৩৫), ফয়জার রহমান (৪৩), আবদুর রহিম (৪৬) এবং জয়পুরহাটের তাজমুল (৪৫)।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই বাসের সাতজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফলে এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় আটজনে। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।