শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
​প্রধান শিক্ষকের ফরওয়ার্ডিং ছাড়াই ফরম পূরণ: অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের আবেদন লোডশেডিং কমে গেছে, পেট্রলের লাইনও আর নেই: জ্বালানিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ফোম ফ্যাক্টরির কেমিক্যাল থেকে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বিতর্কিত নথি ব্যবহার করে প্রবাসী কর্মীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ বিদেশি বিনিয়োগকৃত কোম্পাণীর বিরূদ্ধ ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে বিধ্বংসী পরিণতির হুঁশিয়ারি পুতিনের ঢাকায় প্রথমবার একসঙ্গে নারী ডিসি-এসপি নিয়োগ সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ফের ৪ দিনের রিমান্ডে শ্রীপুরে ধর্ষণ অপরাদ ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা,ধর্ষণকারীর মামলা সরাইপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পরিদর্শনে চসিক কর্মকর্তারা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী
ফুটপাতে বসে মা স্বপ্ন দেখেন ছেলে ‘অফিসার’ হবে

ফুটপাতে বসে মা স্বপ্ন দেখেন ছেলে ‘অফিসার’ হবে

২০১৬ সালে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মিতালিকে রেখে চলে যান তাঁর স্বামী। এখন সেই ছেলের বয়স পাঁচ বছর হতে চলেছে। মা ও ছেলে বলতে গেলে যুদ্ধ করে টিকে আছে এই শহরে। তবে ফুটপাতে বসেই এই মা স্বপ্ন দেখছেন, ছেলেকে ‘অফিসার’ বানাবেন। তবে এ স্বপ্নের কথা বলে নিজেই আবার বললেন, ছেলেকে অফিসার বানাতে তো অনেক টাকার দরকার। ফুটপাতে বসে মানুষের ওজন মেপে মিতালিকে কোনো দিন ২০০ টাকা আবার কোনো দিন ৫০ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়।

ছেলের লেখার স্লেট, বাংলা-ইংরেজিসহ বিভিন্ন বই রাখার জন্য কাপড়ের ব্যাগ, ছোট পানির বোতল, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আর ওজন মাপার মেশিন—এই নিয়েই মিতালি ও তাঁর ছেলের সংসার।

মিতালি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে ফলাফল জানার আর সুযোগ পাননি বলে জানালেন। বাবা মারা গেছেন ১৯৯৯ সালে। মা ও দুই বোন আছেন, তবে তাঁদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই।

মিতালি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর

মিতালি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর
মানসুরা হোসাইন

মিতালি কারও কাছে হাত পাততে চান না। তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে দেখে অনেকেই বিভিন্নভাবে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মিতালি। বললেন, ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি করা একজন তাঁকে ওজন মাপার মেশিনটি কিনে দিয়েছেন। শাহনাজ বেগম নামের এক নারী তাঁর নিজের বাসার ছাদে ছোট একটি ঘর করে তাঁকে ছেলেসহ থাকতে দিয়েছেন। সেই ঘরের কোনো ভাড়া দিতে হচ্ছে না গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে।

ছেলের লেখার স্লেট, বাংলা-ইংরেজিসহ বিভিন্ন বই রাখার জন্য কাপড়ের ব্যাগ, ছোট পানির বোতল, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আর ওজন মাপার মেশিন—এই নিয়েই মিতালি ও তাঁর ছেলের সংসার। সকাল ১০টা বা বেলা ১১টার দিকে মিতালি ফুটপাতে বসেন। দুপুরে সাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে খাবার নিয়ে ঘরে ফেরেন। ছেলে ও নিজের গোসল–খাওয়া শেষ করে আবার ফুটপাতে বসেন। রাত ১১টার দিকে ছেলেকে নিয়ে পশ্চিম তেজতুরী বাজারের ঘরে ফেরেন।

স্বামী চলে যাওয়ার পর আর দ্বিতীয় বিয়ে করার চেষ্টা করেননি জানিয়ে মিতালি বলেন, প্রথম স্বামীই ছেড়ে চলে গেছেন, দ্বিতীয় স্বামী তাঁর পাশে থাকবেন, সে নিশ্চয়তা তো নেই। মা ও ছেলে যেমন আছেন, তাতেই খুশি মিতালি। কারও বিরুদ্ধে রাগ, অভিমান বা অভিযোগ নেই। বললেন,‘ছেলে হওনের পর থেকে আমার ভাগ্য খুলছে।’ প্রথম দিকে ফুটপাতে বসে ওজন মাপার কাজ করলে আশপাশের অনেকেই বাজে মন্তব্য করতেন। এখন আর তেমন শুনতে হয় না।

কথা শেষে মা ও ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা মিতালি বললেন,‘ভবিষ্যতে কী আছে কপালে, তা তো জানি না।’

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Comments are closed.

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com