ছেলের লেখার স্লেট, বাংলা-ইংরেজিসহ বিভিন্ন বই রাখার জন্য কাপড়ের ব্যাগ, ছোট পানির বোতল, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আর ওজন মাপার মেশিন—এই নিয়েই মিতালি ও তাঁর ছেলের সংসার।
মিতালি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে ফলাফল জানার আর সুযোগ পাননি বলে জানালেন। বাবা মারা গেছেন ১৯৯৯ সালে। মা ও দুই বোন আছেন, তবে তাঁদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই।
মিতালি কারও কাছে হাত পাততে চান না। তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে দেখে অনেকেই বিভিন্নভাবে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মিতালি। বললেন, ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি করা একজন তাঁকে ওজন মাপার মেশিনটি কিনে দিয়েছেন। শাহনাজ বেগম নামের এক নারী তাঁর নিজের বাসার ছাদে ছোট একটি ঘর করে তাঁকে ছেলেসহ থাকতে দিয়েছেন। সেই ঘরের কোনো ভাড়া দিতে হচ্ছে না গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে।
ছেলের লেখার স্লেট, বাংলা-ইংরেজিসহ বিভিন্ন বই রাখার জন্য কাপড়ের ব্যাগ, ছোট পানির বোতল, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আর ওজন মাপার মেশিন—এই নিয়েই মিতালি ও তাঁর ছেলের সংসার। সকাল ১০টা বা বেলা ১১টার দিকে মিতালি ফুটপাতে বসেন। দুপুরে সাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে খাবার নিয়ে ঘরে ফেরেন। ছেলে ও নিজের গোসল–খাওয়া শেষ করে আবার ফুটপাতে বসেন। রাত ১১টার দিকে ছেলেকে নিয়ে পশ্চিম তেজতুরী বাজারের ঘরে ফেরেন।
স্বামী চলে যাওয়ার পর আর দ্বিতীয় বিয়ে করার চেষ্টা করেননি জানিয়ে মিতালি বলেন, প্রথম স্বামীই ছেড়ে চলে গেছেন, দ্বিতীয় স্বামী তাঁর পাশে থাকবেন, সে নিশ্চয়তা তো নেই। মা ও ছেলে যেমন আছেন, তাতেই খুশি মিতালি। কারও বিরুদ্ধে রাগ, অভিমান বা অভিযোগ নেই। বললেন,‘ছেলে হওনের পর থেকে আমার ভাগ্য খুলছে।’ প্রথম দিকে ফুটপাতে বসে ওজন মাপার কাজ করলে আশপাশের অনেকেই বাজে মন্তব্য করতেন। এখন আর তেমন শুনতে হয় না।
কথা শেষে মা ও ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা মিতালি বললেন,‘ভবিষ্যতে কী আছে কপালে, তা তো জানি না।’
