সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ খাগড়াছড়িতে ৫৪ নার্সের দ্রুত বদলি: স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোটবদ্ধ ইসরায়েলের বিরোধীরা বাবার কাটা খাল পুনঃখনন করলেন তারেক রহমান জামালপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ পড়ে মা ও ২ মেয়ের মৃত্যু মিথ্যা মামলা দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর পৌঁছেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার বিশেষ অভিযানে ৪৩ মাদকসেবী গ্রেফতার কলা ইমরান চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু, ঢাকাতেই ৫
দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ খাগড়াছড়িতে ৫৪ নার্সের দ্রুত বদলি: স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ খাগড়াছড়িতে ৫৪ নার্সের দ্রুত বদলি: স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

মোঃ আব্দুল কাদের, খাগড়াছড়ি : দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের ৬মাস না পেরোতেই ৬ নার্স সহ খাগড়াছড়ি জেলার ৫৪ জন নার্স একযোগে বদলীর আদেশ হয়।
একদিকে হামের প্রাদুর্ভাব,চলছে হামের টিকাদান কর্মসূচি অন্য দিকে এসএসসি পরীক্ষা এর মধ্যেই খাগড়াছড়ি পুরো জেলা থেকে ৫৪ জন নার্সের বদলী হওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় প্রশাসন। সমতল থেকে ডাক্তার ও নার্স এমনিতেই পার্বত্য জেলায় আসতে চায় না তার উপর এতগুলো নার্স একসাথে বদলী হয়ে চলে গেলে এই শুন্য পদ গুলো আর সহসাই পূরন হওয়া সম্ভাবনা নেই।

বদলী আদেশে মানা হয়নি নিয়োগবিধি, প্রথম পোস্টিং অন্তত ২ বছর থাকতে হয় বা চাকুরী জীবনে দুই বছর দুর্গম এলাকায় থাকতে হয় এমন বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। দীঘিনালায় ৬ জনসহ ৫৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে একযোগে বদলী হওয়ায় দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় এমনিতেই চিকিৎসক ও নার্স সংকট প্রকট সেখানে এই গণ হারে বদলির আদেশে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই সাথে দীঘিনালা উপজেলায় চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর ৯ জন নার্স নিয়োগের প্রথম পোষ্টিং হয় দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পুরো জেলাতে ৫৪ জন নার্স বদলী হয় কিন্তু সাত মাসের মাথায় গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে তাঁদেরকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে (যার স্মারক নং-৪৫.০৩.০০০০.০০১.১৯.০০২.২৪-১৩০২) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ও উপসচিব বদরুল আলম এর স্বাক্ষরে এই আদেশটি জারি করা হয়। আদেশে বলা হয় ২৬ ই এপ্রিলের মধ্যে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য । সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুর্গম এলাকায় বা সমতলের যেকোনো কর্ম এলাকায় নির্দিষ্ট সময় (২-৩বছর) অতিবাহিত করার কথা থাকলেও ছয় মাস যেতে না যেতেই এই বদলীর আদেশ দেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সটি নামমাত্র জনবল নিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে চলছে। নতুন এই ৬ জনের বদলির ফলে নার্সিং সেবা চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা যেমন: বিভাগীয় প্রসূতি সেবা, জরুরি বিভাগ এবং ইনডোর রোগীদের ইনজেকশন ও ড্রেসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নার্সের ওপর নিভর করছে। আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবা প্রত্যাশী রোগীরা বিশেষ করে প্রসূতি রোগিদের দুর্ভোগ বাড়বে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীঘিনালা উপজেলাটি রাংঙ্গামাটির দুটি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু ও পর্যটন এলাকা সাজেকের রোগীরা ও এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপরই নির্ভরশীল। একের পর এক নার্স বা চিকিৎসক বদলি হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা ব্যহত হবে ? তারা এই বদলি আদেশ স্থগিত করে জনবল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক সূত্র জানাযায়, অধিদপ্তর থেকে বদলী করা হয়েছে তবে বদলীর আগে কতৃপক্ষের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয় তা মানা হয়নি। একযোগে দীঘিনালাসহ পুরো জেলায় ৫৪ জন নার্স চলে গেলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে এ কথা স্বীকার করেছেন জেলা সিভিল সার্জন।

সূত্র আরও জানায়, এই বদলি প্রক্রিয়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনকে তোয়াক্কা করে মানা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, পার্বত্য জেলাগুলোতে কর্মরত কোনো চিকিৎসক বা নার্স বদলি হতে চাইলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশিষ্ট কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করতে হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে সেই আবেদন জেলার সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো (ঋড়ৎধিৎফ) হয়। সিভিল সার্জন যাচাই-বাছাই ও সুপারিশসহ তা পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের কাছে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করেন। সর্বশেষ জেলা পরিষদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বদলি আদেশ কার্যকর হয়। বদলি আদেশপ্রাপ্ত ওই ৬৪ জন নার্স নির্ধারিত এই প্রশাসনিক ধাপগুলো অনুসরণ না করে সরাসরি অনলাইনে বদলীর আবেদন করেছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সরাসরি আবেদনের এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, এতে জেলা পরিষদ আইনকে লঙ্ঘণ করা হয়েছে। সূত্রে জানাযায় কয়েকজন নার্স কতৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ছাড়পত্র ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন যা চাকুরীবিধি আইন পরিপন্থি, আবার কেউ কেউ উপর মহল থেকে ফোন দিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। জেলার সচেতন মহল এই গণহারে বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবী করছে এবং জেলা পরিষদ থেকে চারপত্র ও এলপিসি( শেষ বেতন প্রত্যায়ন) না দেওয়ার দাবী করছে।এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ ছাবের বলেন আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।

সময়ের ধারা সংবাদটি শেয়ার করুন এবং আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © somoyerdhara.com
Desing by Raytahost.com